ঢাকা , শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধান উপদেষ্টার সাবেক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের বিরুদ্ধে বিটিসিএলের একটি মেগা প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ২২-০২-২০২৬ ১১:০৯:৪২ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ২২-০২-২০২৬ ১১:০৯:৪২ পূর্বাহ্ন
প্রধান উপদেষ্টার সাবেক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের বিরুদ্ধে বিটিসিএলের একটি মেগা প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে
সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের বিরুদ্ধে বিটিসিএলের একটি মেগা প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে নেওয়া ৩২৬ কোটি টাকার একটি দুর্নীতিগ্রস্ত প্রকল্প বাতিল না করে, উল্টো নিজের ক্ষমতা খাটিয়ে সেটি বাস্তবায়নে মরিয়া হয়ে ওঠেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের খরচে চীন ভ্রমণ, দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) চিঠি দিয়ে তদন্ত থামানোর চেষ্টা এবং নিয়মনীতি ভেঙে কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি দেশে আনার মতো গুরুতর সব অপকর্মের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের প্রধান অপকর্মগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

🔴 উপদেষ্টার নির্দেশ অমান্য ও ঠিকাদারের টাকায় চীন সফর: বিটিসিএলের এই প্রকল্পে দুর্নীতির প্রমাণ পেয়ে সাবেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম এর আগে ফ্যাক্টরি ভিজিটের অনুমোদন (জিও) বাতিল করেছিলেন। কিন্তু ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রকল্পের মালামাল আনতে ফের চীন যাওয়ার অনুমতি চেয়ে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে চিঠি দেন। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর সেই আবেদন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। কিন্তু সরকারি নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে ফয়েজ তৈয়্যব তার ব্যক্তিগত সহকারীকে নিয়ে নিজ উদ্যোগেই চীনে যান। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, তার এই চীন ভ্রমণের সব ব্যয় বহন করে ‘সিইএবি’ নামের একটি চীনা সংগঠন, যার অন্যতম প্রধান সদস্য হলো এই প্রকল্পের কাজ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘হুয়াওয়ে’।

🔴 দুদক চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে তদন্ত থামানোর চেষ্টা: প্রকল্পটিতে বুয়েটের ফিজিবিলিটি রিপোর্ট উপেক্ষা করে ১৬৫ কোটি টাকার কাজ ৩২৬ কোটি টাকায় করার প্রমাণ পেয়ে দুদক আগেই জানিয়েছিল— এই প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে বেআইনি। কিন্তু চীন থেকে ফিরে ফয়েজ তৈয়্যব আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। দুদকের বাধা সরাতে ২২ জুন তিনি নিজের সরকারি প্যাডে সরাসরি দুদক চেয়ারম্যানকে একটি আধাসরকারি চিঠি (ডিও লেটার) দেন। সেখানে তিনি প্রকল্পটির কাজ চলমান রাখার পক্ষে সাফাই গান এবং দুদক চেয়ারম্যানের ‘ব্যক্তিগত মনোযোগ’ দাবি করেন।

🔴 ফ্যাক্টরি টেস্ট ছাড়াই অবৈধভাবে মালপত্র আনার নির্দেশ: সরকারি কেনাকাটায় বিদেশ থেকে যন্ত্রপাতি আনার আগে ‘ফ্যাক্টরি টেস্ট’ বাধ্যতামূলক। কিন্তু ফয়েজ তৈয়্যব কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করেননি। কোনো বৈধ অনুমোদন না পেয়ে তিনি গত ২৫ মে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিটিসিএলের এমডিকে নিজের ইচ্ছামতো কিছু নির্দেশনা দিয়ে মালপত্র শিপমেন্ট করার নির্দেশ দেন। তার এই অবৈধ নির্দেশের ওপর ভিত্তি করেই হুয়াওয়ে বাংলাদেশে যন্ত্রপাতি পাঠিয়ে দেয়।

🔴 ব্যাংক ম্যানেজারকে ১০০ কোটি টাকা ছাড়ের চাপ: ফয়েজ তৈয়্যবের ছত্রছায়ায় নিয়মবহির্ভূতভাবে যন্ত্রপাতি দেশে আসার পর, এখন এলসি’র প্রায় ১০০ কোটি টাকা পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের (ইউসিবিএল) ম্যানেজারকে নানাদিক থেকে চাপ দিয়েছেন। ব্যাংক ম্যানেজার দুদকে তদন্ত চলমান থাকায় টাকা ছাড় না দিয়ে চাপে দিশেহারা হয়ে দুদকের দ্বারস্থ হন।

এছাড়া বিটিসিএলের সক্ষমতা বাড়াতে বুয়েট সমীক্ষা করে জানিয়েছিল, সর্বোচ্চ ১৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে (২৬ টেরাবাইট সক্ষমতা) এই কাজ করা সম্ভব। কিন্তু বিগত সরকারের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা সেটাকে ৩২৬ কোটি টাকার প্রকল্পে রূপান্তর করেন। সরকার পরিবর্তনের পর নাহিদ ইসলাম এই দুর্নীতি ধরে ফেলে কাজ স্থগিত করেছিলেন। কিন্তু তার পদত্যাগের পর ফয়েজ তৈয়্যব দায়িত্ব নিয়ে সেই একই দুর্নীতির বাস্তবায়ন করেন।

এই গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে জানতে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে মেসেজ পাঠানো হলে তিনি চীন ভ্রমণ, দুদককে চাপ দেওয়া বা নিয়ম ভাঙার কোনো সদুত্তর দেননি। 

বর্তমানে দুদকের এই তদন্তটি রহস্যজনক কারণে আটকে আছে এবং ফয়েজ তৈয়্যবের চাপে দেশে আসা কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতির বিল পরিশোধ নিয়ে চরম অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ